Header Ads

Header ADS

৫ই ফাল্গুন



 
   
    FF Name: ৫ই ফাল্গুন(oneshort)
    writer      : Sarah





শীতের শুষ্কতা দূর হয়ে প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছে বসন্তের। নানান রঙের ফুলের মেলা বসেছে গাছে গাছে। পাখিদের কলরব শোনা যায় যত্রতত্র! কোকিলের কুহু কুহু সুরে ঘুম ভাঙ্গে তাসনিমের। জানালা দিয়ে সকালের মিষ্টি রোদ এসে তাকে জানান দিচ্ছে এবার উঠে কাজে লেগে পড়!! বেলা যে শেষ হতে চললো... তাসনিম আড়মোড়া ভাঙতেই টের পেল নরম কিছু একটা তার হাতে লাগছে। সে মুচকি হেসে সেই বস্তুটাকে কোলে তুলে নিল।
- পুচি!! Gummornung!!😘 আহহহ মিনি! এদিকে আয়😘 আজকে নতুন দিন শুরু। সাথে আজকের দিনটা খুবই স্পেশাল একটা দিন। জানিস তো তোরা??🤭 চল এবার উঠি। তাত্তারী সব রেডি করতে হবে!
এই বলে তাসনিম বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হতে গেল। পুচি আর মিনি হলো তাসনিমের। দুই বিড়াল। ওর সুখ দুঃখের সাথী। তাদের সাথেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে তার। ওহো! তাসনিম এর আসল পরিচয়টাই তো দেয়া হলোনা!! কোরিয়া বংশদ্ভুত বিখ্যাত কিম পরিবারের একমাত্র মেয়ে কিম তাসনিম। দুই ভাইয়ের আদরের ছোট্ট বোন। স্কুল-কলেজ এর পাঠ চুকিয়ে এবারই বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছে। তার বাবার কাজের সূত্রে বাংলাদেশ নামক সুন্দর, সুজলা সুফলা দেশটিতে তাদের স্থান এখন। গত পাঁচ বছর ধরে তারা এদেশে থাকে। প্রথম প্রথম এই দেশের আবহাওয়া, পরিবেশ, মানুষজন সবার সাথে মানিয়ে নিতে তাদের খুব বেগ পেতে হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় এখন তারা এই দেশ ছেড়ে যেতেও খুব কষ্ট পায়। যার ফলে তাসনিমের দুই ভাই কোরিয়াতে সেটেল হলেও তাসনিম এই দেশ ছেড়ে যেতে চায়না। তাই তার বাবা-মা তাকে নিয়ে ছুটি পেলে কোরিয়া থেকে ঘুরে আসে। তার ভাইরাও তাদের স্ত্রীদের নিয়ে ঘুরে যায় এখান থেকে। তাসনিম এর ছোট ভাই কিম সকজিন এর স্ত্রী বাংলাদেশী। (🤭নিজের ঢোল নিজেই পি*টাই!) তার সাথে তাসনিমের ভীষণ ভাব। এই হলো তাসনিমের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
ফ্রেশ হয়ে এসে সে তার বাসন্তী রঙের শাড়িটা আলমারি থেকে বের করে নিল, সাথে সবুজ রঙের গর্জিয়াস ব্লাউজ।
- ননদিনী! খেতে আয়! খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!!
- আসছি ভাবিয়া! যাই আগে খেয়ে আসি তারপর রেডি হব। এসে ওপ্পার দেয়া গিফট বের করতে হবে।
এই বলে সে খেতে যায়। তাসনিম এর ভাবিয়া হলো ওর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সারাহ। সকজিন কোরিয়াতে রয়েছে । কারন তাদের দেশের নিয়ম 30 বছরের মধ্যেই সকল পুরুষদের বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিস করতে হবে। এইতো গত ডিসেম্বরেই সে ১৮ মাসের জন্য গিয়েছে। তাই এই সময়টা তাসনিমের সাথে কাটানোর জন্য সারাহ দেশে এসে গিয়েছে। তার নিজের পরিবারের সাথেও দেখা করার সুযোগ মিলবে।
- কিরে! আজ কি মনে আছে তো?😁
- অবশ্যই ভাবিয়া!! আজকের দিন কি আমি ভুলতে পারি?? সবার জন্য ১৪ তারিখ ফাল্গুন আর ভালবাসা দিবস হলেও আমার জন্য তো ১৮ তারিখ! এইটা কিভাবে ভুলি?
- বাপরে! দেখ দেখ মেয়েকে!! কি আবেগ নিয়ে বলছে কথাটা!! এখনো তো তাকে জানাসইনি! যদি সে অন্য কেউকে...
- ভাবিয়া! আমি চাই সে ভাল থাকুক সবসময়।তার ভালোর জন্য প্রার্থনা করি। সে যেভাবে থাকুক ভাল থাকলেই আমার শান্তি। আর কিছু চাইনা।
- তুই মানা করেছিস বলে নাহলে সেই কবেই তোর ওপ্পাকে বলে আমি সব ম্যানেজ করে ফেলতাম!
- না গো! তুমি এই কাজ করবে না। আমি চাইনা আমার জন্য উনার সাথে ওপ্পার সম্পর্কের অবনতি হোক!
- তুই আসলেই সবসময় বেশি বুঝিস! বাদ দে। খেয়ে নে। বের হবি তো!!
- হুমমম...
তাসনিম খেয়ে রুমে এসে শাড়ি পরে নেয়। হাতে চুড়ি, চুলে খোঁপা করে বেলি ফুল দিয়ে দেয়। এরপর হালকা মেকআপ করে নেয়। তার ওপ্পা মিলিটারিতে যাওয়ার আগে তার বন্ধুর জন্য গিফট রেখে যায় তার কাছে। তাকে বলে গিয়েছে যেন তার প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনে তাকে এমন ভাবে ফীল করায় যেন সে ভুলেই যায় যে তার বন্ধু সকজিন তার পাশে নেই! তাই সব দায়িত্ব তাসনিমের উপর দিয়ে যায়। তাসনিম রেডি হয়ে তার ভাবীকে বিদায় দিয়ে বের হয়ে পড়ে।
জিনের বন্ধুর নাম জাং হোসক। সেও কোরিয়ান।জিনের থেকে বছর দুয়েক এর ছোট। তবুও তাদের দেখে যে কেউ বলবে তারা দুইজনই সমবয়সী। তারা দুইজন একে অপরের জন্য জানপ্রাণ!! জিন যখন তার পরিবারের সাথে এই দেশে আসে তখন হোসোকও তার সাথে এখানে এসে কাজ করা শুরু করে। সেই সূত্রে তাসনিম ও তাকে চিনে। আর হোসোক এর ব্যবহার, চালচলন, কেয়ারিং, তার হাসিখুশি মনোভাব, সবাইকে আগলে রাখা এসব কিছুতে মুগ্ধ হয়ে তাসনিম যে কবে তাকে নিজের মন দিয়ে ফেলেছে ত সে নিজেও জানেনা! একদিন পুচির সাথে হোসক এর ব্যাপারে কথা বলছিল তখন সারাহ শুনে ফেলে তারপর তাসনিম তাকে বলে দেয় তার অনুভূতির কথা! আজ হোসোকের জন্মদিন। সেজন্য হোসোককে সারপ্রাইজ দিবে সে। তাসনিম কাল রাতেই হোবিকে মেসেজ দিয়ে আজ একটা রেস্টুরেন্টে আসতে বলেছে।এখন সে সেখানেই যাচ্ছে। বাসার সামনে এসে রিক্সা ডেকে উঠে পড়ল তাসু(লিখার সুবিদার্থে তাসনিম-কে তাসু আর হসোককে হবি লিখলাম!) বসন্তের বাংলাদেশ বরাবরই অত্যন্ত সুন্দর। গাছের পাতা যেগুলো শীতে শুকিয়ে গিয়েছে সেগুলো ঝরে ঝরে পড়ে আর গাছে নতুন পাতা গজায়। পাতাগুলো ঝরে পড়ার দৃশ্য চমৎকার!! মিষ্টি বাতাস বয়ে যাচ্ছে... প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে সে তার গন্তব্যে পৌঁছে গেল। রিক্সার ভাড়া মিটিয়ে সে দরজা খুলে রেস্টুরেন্টে ঢুকল। তাকে দেখে আশেপাশের লোকজন তাকিয়ে রয়েছে। আজ বসন্তের প্রথম দিন নয় তবুও তার এহেন বেশভূষায় তাকে দেখতে মায়াবী অপ্সরী লাগছে। মানুষের তাকানো তোয়াক্কা না করে তাসু তার কাঙ্কিত মানুষটাকেই খুঁজে চলল। সে দেখতে পেল জানালার ধারের কাছে সিটটায় তিনি পিছে ফিরে বসে আছেন। সামনে স্প্রাইট। এই মানুষটা স্প্রাইট ভীষণ পছন্দ করেন। তাসনিম তার দিক এগিয়ে তার সামনের ফাঁকা সিটে বসে যায়। তাকে দেখে হবি মুখ তুলে তাকায়। হবি তাসুকে দেখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল!! এই মেয়েটাকে এত সুন্দর কেন লাগে??!! তার কাজলকালো চোখজোড়া দেখলেই এক প্রশান্তি বিরাজ করে। হবি মনে মনে ঠিকই তাসুকে ভালবাসে। শুধু তার জিন হিঅং এর বোন বলে সে কিছু বলেনা।
- হবি ওপ্পা!! শুভ জন্মদিন! অনেক অনেক ভাল থাক। সবসময় হাসিখুশি আর সুস্থ থাক। তোমার জীবনে সাফল্যের বন্যা বয়ে যাক। আরো যুগ যুগ এভাবেই থাক। এই কামনাই করি!😊
- অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।
- এই নাও তোমার গিফট। এটা আমার পক্ষ থেকে আর এই নাও এটা। জিন অপ্পা দিয়ে গিয়েছে এটা তোমাকে দেয়ার জন্য। এই নাও!
- অসংখ্য ধন্যবাদ। জিন পাঠিয়েছে??
- না। যাওয়ার আগে আমাকে দিয়ে গিয়েছিল তোমায় যেন আজ দি।
- 🥺🥺🥺
- হয়েছে আর ইমোশনাল হতে হবেনা। কি খাবে বল। নাকি শুধু স্প্রাইট খেয়েই তোমার পেট ভরে যাবে??😅
- আরে না না! অর্ডার কর। তোমার যা ইচ্ছে অর্ডার কর। আজ আমার ট্রিট। নাও কর।
- কেন?? তুমি কেন ট্রিট দিবে?? আমি দিব। তুমি অর্ডার কর।
- আমার জন্মদিন আমিই তো দিব!
- উহু। আমি অন্যদের মত না। আমার মত হচ্ছে আমি আজ তোমার জন্মদিনে তোমাকে ট্রিট দিব তুমি আমার জন্মদিনের আমাকে দিও। Ok???
- okay!!
- Good!
তাসনিম আগে থেকেই এখানে একটা কেক অর্ডার করে রেখেছিল। হবি খাবার অর্ডার করার পর একজন এসে হবির সামনে কেক দিয়ে যায় এবং তাকে উইসও করে। হবি এরকম কিছু হবে ভাবতেও পারেনি!! সে খুবই অবাক হয়েছে! তবে যা তাকে আরো বেশি অবাক করেছে তা হলো কেকের উপরে লিখা "সূর্যের কিরণ! জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সূর্য যেভাবে তার আলো দিয়ে চারিদিকের অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোকিত করে দেয়, আপনিও ঠিক তেমনি আপনার চারপাশে দ্যুতি ছড়ান।" পুরোটা কেক সূর্যের আলোকে করা আর তার মাঝে হবির হাসজ্জ্বল ছবি। হবি একবার কেক দেখতে একবার তাসনিমের দিকে তাকাচ্ছে। এত্ত সুন্দর একটা কেক।
- নিন। এবার কেক কাট**ন।
- এত সুন্দর একটা কেক কেমনে ক**টি!!
- আসেন আমি সহ দেখিয়ে দিচ্ছি। হাত দিন। ছু**রি ধরুন। এইতো! Happy Birthday to you! Happy Birthday to you! Happy Birthday dear sunshine!! Happy Birthday to you!!🥳 কেক কেটে হবিকে খাইয়ে দিল।
আজকের দিনটা হবি আজীবন মনে রাখবে। এত সুন্দর করে জন্মদিন আগে কখনো উদযাপন করেনি সে! তার থেকে বড় কথা সে যাকে মনে স্থান দিয়েছে সেই মানুষটাই তার এই দিনটাকে বসন্তের মত সাজিয়ে দিল নানান রঙে....আজ ৮ই ফাল্গুন হলেও তার জন্য আজই বসন্তের শুরু........
* সমাপ্ত *
                                                  

No comments

Powered by Blogger.